নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও নয়াদিল্লি :
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দলটির অন্যতম শীর্ষ নেতা এবং সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ ও ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন—‘নৌকা নেই, ভোট নেই’।
গত শুক্রবার ভারতের নয়াদিল্লিতে ‘ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) অফ সাউথ এশিয়া’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে আরাফাত এই আহ্বান জানান। তিনি নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘অবৈধ’ ও ‘পুতুল সরকার’ হিসেবে অভিহিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ এ আরাফাত অভিযোগ করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়াটি পুরোটাই শঠতাপূর্ণ। কারণ, দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক জোটকে (আওয়ামী লীগ) জোর করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতায় নেতৃত্ব দেওয়া দলকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন হলে তার কোনো বৈধতা থাকতে পারে না।’
সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, প্রধান বিরোধী শক্তিকে আইনি ও শারীরিকভাবে দমন করে কোনো গণতান্ত্রিক চর্চা হতে পারে না। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদ করার একমাত্র পথ হিসেবে তিনি নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে বর্জনের ডাক দেন। দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই ফ্যাসিবাদী আচরণের প্রতিবাদে ভোটের দিন কেউ কেন্দ্রে যাবেন না।’
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি অডিও বার্তা প্রচার করা হয়। নিজের বর্তমান অবস্থাকে ‘নির্বাসিত গণতন্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা অন্তর্বর্তী সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ‘মাতৃভূমির নিয়ন্ত্রণ এখন একটি খুনি ও ফ্যাসিস্ট চক্রের হাতে। দেশে অরাজকতা চলছে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন চালানো হচ্ছে।’
নয়াদিল্লির ওই সংবাদ সম্মেলনে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল উপস্থিত ছিলেন (সশরীরে বা ভিডিওর মাধ্যমে)। তাঁরা আরাফাতের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া কোনো ‘সাজানো নির্বাচন’ বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা বা আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা—কোনোটাই আনতে পারবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের এই ‘নো বোট, নো ভোট’ (নৌকা নেই, ভোট নেই) নীতি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে। ভোটার উপস্থিতি কমিয়ে আনা এবং নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করাই এখন দলটির মূল কৌশল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
#
দৈনিক আজকেরকন্ঠ
<p>Editor: Hasanuzzaman<br>Address: Belvedere Rd, near ALIPORE ZOO, Alipore, Kolkata, West Bengal 700027</p>
Copyright © 2026