অনলাইন ডেস্ক :
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জঙ্গিবাদ দীর্ঘদিন ধরেই একটি ভয়াবহ ও সংবেদনশীল ইস্যু। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর সঙ্গে জঙ্গিদের সখ্যতার অভিযোগ সামনে আসায় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক নয়—এটি দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।
বিশ্লেষকদের আলোচনায় আরও উঠে এসেছে যে জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা–র সঙ্গে যোগসূত্র থাকার অভিযোগে আলোচিত মুফতি হারুন ইজহার–সম্পর্কিত এক জঙ্গির সঙ্গে তারেক রহমান–এর সাক্ষাৎ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগছে এটি কি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত প্রেক্ষাপট রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে আবারও কি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় এলে দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে? অনেকেই মনে করিয়ে দিচ্ছেন অতীতের অভিজ্ঞতার কথা।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময় দেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ওই সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক জঙ্গি তৎপরতার ঘটনা সামনে আসে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল ১৭ আগস্ট ২০০৫ বাংলাদেশ সিরিজ বোমা হামলা। ওই দিন দেশের ৬৩টি জেলায় প্রায় একই সময়ে সমন্বিতভাবে শত শত বোমা বিস্ফোরণ ঘটে, যা গোটা দেশকে স্তম্ভিত করে দেয়। এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে জঙ্গি নেটওয়ার্কটি সুসংগঠিত এবং বিস্তৃত ছিল।
এরপর জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর কার্যক্রম ও তাদের নেটওয়ার্ক নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র উদ্বেগ ও আলোচনা শুরু হয়। রাষ্ট্র, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নাগরিক সমাজ তখন জঙ্গিবাদ মোকাবিলাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।
বাংলাদেশের মানুষ অতীতের সেই অন্ধকার সময়ে ফিরে যেতে চায় না। উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা এই তিনটি বিষয়ই আজ দেশের অগ্রগতির মূল ভিত্তি।
তাই অনেকের মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জঙ্গিবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
কপি : দিনপত্র
<p>Editor: Hasanuzzaman<br>Address: Belvedere Rd, near ALIPORE ZOO, Alipore, Kolkata, West Bengal 700027</p>
Copyright © 2026