নিজস্ব প্রতিবেদক:
৫ আগস্ট ২০২৪-এর পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে যখন অনেক শীর্ষ নেতৃত্ব নিষ্ক্রিয় বা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন, তখন পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব মো. মহিববুর রহমান (মহিব) তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখে এক ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে সুচারুভাবে ব্যবহার করে মাঠপর্যায়ের সঙ্গে তাঁর এই নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও নেতৃত্ব রাজনৈতিক মহলে প্রশংসার জোয়ার তৈরি করেছে।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে তিনি আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করেছেন।
নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক আইডি, টেলিগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন তৃনমুলের সাথে। বয়সের জ্যেষ্ঠতা ও প্রতিকূল পরিস্থিতিকে পাশ কাটিয়ে প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত (প্রায় রাত ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত) টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়া, তাদের বিপদের কথা শোনা এবং সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া তাঁর দৈনন্দিন রুটিনে পরিণত হয়েছে।
কঠিন এই সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপদে পড়া নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে তিনি কখনোই কার্পণ্য করেননি। আইনি ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন এই প্রবীণ নেতা।
রাজনীতিতে অভ্যন্তরীণ দূরত্ব বা ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক—এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে তিনি বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে সব বিভেদ ভুলে সবাইকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত ভার্চুয়াল সভা ও বৈঠক পরিচালনা করছেন তিনি। কলাপাড়া উপজেলা, রাঙ্গাবালী উপজেলা, মহিপুর থানা এবং কুয়াকাটা পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় বন্ধন তৈরি করে দলকে সুসংহত করছেন। তাঁর দিকনির্দেশনায় বিভিন্ন মানবিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে।
গত বছর ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালীর প্রতিটি ইউনিয়নে দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ৫ হাজারের অধিক কম্বল বিতরণ করা হয়। এছাড়া রাঙ্গাবালীর প্রান্তিক মান্তা সম্প্রদায়ের মাঝেও কম্বল বিতরণ করে তিনি মানবিক নেতৃত্বের অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।
পাশাপাশি, বিভিন্ন পোস্টারিং কার্যক্রম এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ঢাকা থেকে শুরু করে পটুয়াখালী-৪ আসনের বিভিন্ন স্থানে সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে মিছিল ও শোডাউন পরিচালনা করেছেন।
আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও জননেত্রী শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী-৪ আসন থেকে অন্তত "পঞ্চাশ হাজার" নেতাকর্মীর সরব উপস্থিতি নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বর্তমানে ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রস্তুতিমূলক সভা ও সাংগঠনিক বৈঠক জোরেশোরে চলছে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মহিববুর রহমান মহিব সম্প্রতি এক বক্তব্যে বলেন, "আমাদের মাঝে রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রশ্নে আমরা সবাই আপসহীন ও ঐক্যবদ্ধ।"
কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেত্রীর যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রতি অবিচল আস্থা এবং তা বাস্তবায়নে তাঁর এই অক্লান্ত পরিশ্রম পটুয়াখালী-৪ আসনের রাজনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। তৃণমূলমুখী এই নেতৃত্ব শুধু একটি আসনকেই নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে এক সুদৃঢ় সাংগঠনিক ঐক্যের অনুপম মডেল তৈরি করেছে।
<p>Editor: Hasanuzzaman<br>Address: Belvedere Rd, near ALIPORE ZOO, Alipore, Kolkata, West Bengal 700027</p>
Copyright © 2026