
পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যখন অনেক নেতাকর্মী এলাকা ছাড়া, পরিবার বিচ্ছিন্ন কিংবা নানা মামলার মুখোমুখি—ঠিক সেই সময় জাঁকজমকপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন করায় কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আল সাইফুল ইসলাম সোহাগকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিজ এলাকা পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এসে পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রকাশ্যে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করেন তিনি। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করতেও দেখা গেছে তাকে। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন তার কিছু সমর্থক।
অন্যদিকে, একই সময়ে আওয়ামী লীগের অনেক তৃণমূল নেতাকর্মী রয়েছেন চরম দুর্দশায়—কেউ এলাকা ছাড়া, কেউ কারাবন্দি, আবার কেউ মব হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। অনেকেই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ঈদ কাটিয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে সোহাগের এই প্রকাশ্য ঈদ উদযাপন নিয়ে দলের ভেতরে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
দলের কিছু নেতাকর্মীর অভিযোগ, সোহাগ বিএনপির “বি-টিম” হিসেবে কাজ করছেন।
তাদের দাবি, বিএনপির সঙ্গে তার আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় তিনি এখন পর্যন্ত কোনো হামলা বা মামলার মুখোমুখি হননি। অভিযোগ রয়েছে, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির পক্ষে কাজ করেছেন।
জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র হাজী হুমায়ুন সিকদার সোহাগের মেয়ের শ্বশুর। এছাড়া উপজেলা বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক রিমন সিকদারের সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। এসব সম্পর্কের কারণে তিনি রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পাচ্ছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশ।
এর আগে, কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা না খুলেই সেখানে নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান করার দাবি করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করেন সোহাগ—এমন একটি স্ক্রিন রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি ভুয়া প্রমাণিত হলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সোহাগ তার অনুসারীদের মাধ্যমে বিএনপির সহায়তায় কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী ও মহিপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হয়রানি এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছেন।
পটুয়াখালী-৪ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী এই যুবলীগ নেতাকে ঘিরে আরও অভিযোগ উঠেছে যে, বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি “বি-টিম” গঠন করা হয়েছে, যা তৃণমূল আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
এ অবস্থায়, নির্যাতনের শিকার তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সোহাগের বিরুদ্ধে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সোহাগ প্রায় ১১ মাস কারাভোগের পর তিন মাস আগে মুক্তি পান। তার এই কারাভোগ নিয়েও দলীয় মহলে নানা বিতর্ক রয়েছে।