নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য মুহূর্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের সেই উত্তাল দিনগুলো।
২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর, ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেন জিয়াউর রহমান।
সেদিন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত তার ভাষণ ইতিহাসে স্থান করে নেয় এক শক্তিশালী প্রেরণার উৎস হিসেবে। ভাষণের শুরুতেই তিনি শেখ মুজিবুর রহমান-কে “মহান জাতীয় নেতা” ও “বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং স্পষ্টভাবে ঘোষণা দেন—তিনি বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছেন।
মেজর জিয়া তার বক্তব্যে তৎকালীন সাড়ে সাত কোটি বাঙালির একমাত্র নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের বৈধতা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এসময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশে চলমান গণহত্যা বন্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, শান্তি এবং সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সে সময় চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র হয়ে ওঠে মুক্তিকামী মানুষের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। পাকিস্তানি বাহিনীর দমন-পীড়নের মধ্যেও এই বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত বার্তা সারা দেশে ছড়িয়ে দেয় সাহস, ঐক্য ও প্রতিরোধের প্রেরণা।
ইতিহাসবিদদের মতে, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার পর জিয়াউর রহমান-এর এই বেতার ভাষণ মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে এবং আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভাষণের শেষাংশে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে উচ্চারণ করেন—কোনো দমন-পীড়নই বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে স্তব্ধ করতে পারবে না। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় সেই কালজয়ী আহ্বান, যা আজও বাঙালির স্বাধীনতার চেতনায় অনুপ্রেরণা জোগায়।