পটুয়াখালী সংবাদদাতা :
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মো. শহিদ হোসেন চৌধুরী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের উপস্থিতিতে ১৯ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন।
চারটি আসনের মধ্যে শুরু থেকেই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসন। এ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। তার প্রতীক ট্রাক।
অন্যদিকে নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি পেয়েছেন ঘোড়া প্রতীক। প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী মাঠে নুর ও মামুনের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের প্রচার শুরু করবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। স্থানীয় ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নুরুল হক নুর ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের মধ্যে।
তবে এই দুই প্রার্থীর বাইরে আরেকটি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনাও দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মুহাম্মদ শাহ আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।
স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাক ও ঘোড়া প্রতীকের দুই প্রার্থী মূলত বিএনপির ভোটব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল। সে ক্ষেত্রে ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নীরবে ভালো ফল করতে পারেন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মুহাম্মদ শাহ আলম।
এ ছাড়া গত ১৭ জানুয়ারি নুরুল হক নুরের পক্ষে কাজ না করার অভিযোগে পটুয়াখালী-৩ আসনের দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধা ও বিভক্তি আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচনী মাঠে এর প্রভাব পড়তে পারে বলেও মনে করছেন তারা।